Monday, October 17, 2011

রাসূলুল্লাহ যেভাবে হজ করেছেন-৯


السلام عليكم

দৈনন্দিন পথনির্দেশিকা

রাসূলুল্লাহ যেভাবে হজ করেছেন-৯

পশু যবেহ ও মাথা মুন্ডন
৮৩- অতপর তিনি পশু যবেহের স্থানে গেলেন। তারপর নিজ হাতে তেষট্টিটি ‘উট’[1] যবেহ করলেন।

৮৪- অতপর আলী রা. কে অবশিষ্টগুলো যবেহ করার দায়িত্ব দিলেন  তিনি তাকে নিজের হাদীতে শরীক রাখলেন। 

৮৫- এরপর প্রত্যেক যবেহকৃত উট থেকে এক টুকরো করে নিয়ে রান্না করতে নির্দেশ দিলেন। তখন 

টুকরোগুলো এক পাতিলে রেখে রান্না করা হল। অতপর দুজনে তার শুরবা পান করলেন।[2]

৮৬- এক বর্ণনায় রয়েছে, ‘জাবের রা. বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা) নিজের স্ত্রীদের পক্ষ থেকে একটি গাভি যবেহ করেন।’[3]

৮৭- অন্য বর্ণনায় এসেছে, ‘তিনি সাত জনের পক্ষ থেকে একটি উট যবেহ করেন। আর সাতজনের পক্ষ থেকে একটি গাভি যবেহ করেন।’[4] ‘অতপর আমরা সাতজন উটে শরীক হলাম। এক লোক রাসূলুল্লাহ 

(সা) কে বলল, আপনি কি মনে করেন, গাভিতেও শরীক হওয়া যাবে? তখন তিনি বললেন,

مَا هِىَ إِلاَّ مِنَ الْبُدْنِ
গাভিতো উটের (বিধানের) অন্তর্ভুক্ত।’[5]

৮৮- ‘জাবের রা. বলেন, আমরা মিনায় তিনদিন উটের গোশত খেয়ে তারপর খাওয়া থেকে বিরত 

রইলাম। অতপর রাসূলুল্লাহ (সা) আমাদেরকে অনুমতি দিয়ে বললেন,

كُلُوا وَتَزَوَّدُوا

‘তোমরা খাও এবং পাথেয় হিসেবে রেখে দাও[6]।’[7] ‘জাবের রা. বলেন, অতপর আমরা খেলাম এবং জমা করে রাখলাম।’[8] ‘এভাবে সেগুলো নিয়ে আমরা মদীনায় পৌঁছলাম।’[9]

১০ যিলহজের আমলে ধারাবাহিকতা রক্ষা না হলে কোন অসুবিধা নেই
৮৯- জাবের রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) পশু যবেহ করলেন, ‘অতপর মাথা মুন্ডন করলেন।’[10]

৯০- ‘কুরবানীর দিন মিনায়’[11] মানুষের (প্রশ্নোত্তরের) জন্য বসলেন। ‘সে দিনের’[12] আমলগুলোতে ‘আগে পরে হয়েছে’[13]এমন বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন,

لاََ حَرَجَ لاَ حَرَجَ

‘কোন সমস্যা নেই, কোন সমস্যা নেই’।[14]

৯১- এক ব্যক্তি এসে বলল, আমি যবেহ করার পূর্বে মাথা মুন্ডন করে ফেলেছি। রাসূলুল্লাহ (সা) বললেন,

وَلاَ حَرَج ‘

কোনো সমস্যা নেই।
’
৯২- অন্য একজন এসে বলল, ‘আমি কঙ্কর নিক্ষেপের পূর্বে মাথা মুন্ডন করে ফেলেছি, তিনি বললেন,

وَلاَ حَرَج ‘

কোনো সমস্যা নেই।
’
৯৩- তারপর ‘আরেক জন এসে বলল, আমি কঙ্কর নিক্ষেপের পূর্বে তাওয়াফ করেছি, তিনি বললেন,

وَلاَ حَرَج ‘
কোনো সমস্যা নেই।’[15]

৯৪- ‘অন্য এক ব্যক্তি এসে বলল, আমি পশু যবেহের আগে তাওয়াফ করেছি। তিনি বললেন,
 ِاذْبَحْ وَلاَ حَرَج ‘
যবেহ কর, কোনো সমস্যা নেই।’[16]

৯৫- তারপর অন্য আরেক ব্যক্তি এসে বলল, ‘আমি কঙ্কর নিক্ষেপের পূর্বে কুরবানী করে 

ফেলেছি। তিনি বললেন,

ارْمِ ، وَلاَ حَرَجَ
‘নিক্ষেপ কর। কোন সমস্যা নেই।’ [17]

৯৬- ‘অতপর আল্লাহর নবী (সা) বললেন,
قَدْ نَحَرْتُ هَهُنَا وَمِنًى كُلُّهَا مَنْحَرٌ
‘আমি এখানে যবেহ করলাম, আরা মিনা পুরোটাই যবেহের স্থান।’[18]

৯৭- ‘মক্কার প্রতিটি অলিগলি চলার পথ এবং যবেহের স্থান।’[19]

৯৮- ‘অতএব, তোমরা তোমাদের অবস্থানস্থলে থেকে পশু যবেহ কর।’[20]

ইয়াউমুন-নহর তথা ১০ তারিখের ভাষণ

99   - জাবের রা. বলেন, ‘কুরবানীর দিন আমাদের উদ্দেশ্যে রাসূলুল্লাহ (সা) ভাষণ দিলেন। তিনি বললেন,

·     أَيُّ يَوْمٍ أَعْظَمُ حُرْمَةً ؟ فَقَالُوْا : يَوْمُنَا هَذَا

‘সম্মানের দিক থেকে কোন্ দিনটি সবচে’ বড় ? তাঁরা বললেন, আমাদের এই দিনটি।

·     قَالَ : أَيُّ شَهْرٍ أَعْظَمُ حُرْمَةً ؟ فَقَالُوْا : شَهْرُنَا هَذَا

‘তিনি বললেন, কোন্ মাসটি সম্মানের দিক থেকে সবচে’ বড় ? তাঁরা বললেন, আমাদের এই 

মাসটি।

·     قَالَ : أَيُّ بَلَدٍ أَعْظَمُ حُرْمَةً ؟ فَقَالُوْا : بَلَدُنَا هَذَا

‘তিনি বললেন, কোন্ শহরটি সম্মানের দিক থেকে সবচে’ বড় ? তাঁরা বললেন, আমাদের এই শহরটি।’

·     قَالَ : فَإِنَّ دِمَاءَكُمْ وَأَمْوَالَكُمْ عَلَيْكُمْ حَرَاٌم كَحُرْمَةِ يَوْمِكُمْ هَذَا فِي بَلَدِكُمْ هَذَا فِيْ شَهْرِكُمْ هَذَا

‘তিনি বললেন, নিশ্চয় তোমাদের রক্ত ও তোমাদের সম্পদ আজকের এই দিন, এই শহর, এই 

মাসের ন্যায় সম্মানিত।’

·     هَلْ بَلَّغْتُ ؟ قَالُوْا : نَعَمْ . قَالَ : اَللَّهُمَّ اشْهَدْ .

‘আমি কি পৌঁছে দিয়েছি? তাঁরা বললেন, হ্যাঁ। তিনি বললেন, হে আল্লাহ,  আপনি সাক্ষী থাকুন।’[21]

চলবে...



[1]. ইবন মাজা।

[2]. এ থেকে জানা গেল, নফল বা ওয়াজিব কুরবানীর গোশত কুরবানীকারী নিজে খেতে করতে পারবেন।

[3]. মুসলিম।

[4]. মুসলিম।

[5]. বুখারী ফিত-তারীখ।

[6]. মুশরিকরা তাদের যবেহকৃত হাদীর গোশত ভক্ষণ করত না। তারা নিজদের জন্য তা হারাম মনে করত। মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তা 

খাওয়ার নির্দেশ প্রদানের মাধ্যমে জাহেলী যুগের কুপ্রথার বিলুপ্তি ঘটান।

[7]. মুসনাদে আহমদ।

[8]. বুখারী, মুসনাদে আহমদ।

[9]. মুসনাদে আহমদ।

[10]. মুসনাদে আহমদ।

[11]. ইব্ন মাজা।

[12]. ইব্ন মাজা।

[13]. ইব্ন মাজা।

[14]. অর্থাৎ তোমার যে আমলগুলো বাকি আছে তা আদায় করে নাও। আর যেগুলো করেছো- তাতে যা আগে-পিছে হয়েছে তাতে কোনো 

অসুবিধে নেই।

[15]. দারেমী, ইব্ন মাজা।

[16]. তাহাবী।

[17]. মুসনাদে আহমদ।

[18]. মুসনাদে আহমদ।

[19]. আবূ দাউদ।

[20]. মুসলিম।

[21]. মুসনাদে আহমদ।

be Organized by Holy Islam 
O.H.I 
For More Visit:

বই পড়ুনঃ http://ohilibrary.blogspot.com/