Wednesday, July 20, 2011

বিশ্বের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে স্রষ্টাকে ভুলে যাওয়া


السلام عليكم
দৈনন্দিন পথনির্দেশিকা 
বিশ্বের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে স্রষ্টাকে ভুলে যাওয়া


লেখক: শাহ আব্দুল হান্নান

দার্শনিকভাবে দেখলে, বিশ্বের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে আল্লাহকে ভুলে যাওয়া, স্রষ্টাকে ভুলে যাওয়া৷ যিনি আমাকে বানিয়েছেন তাঁকে ভুলে যাওয়া৷ আল্লাহ নিজেই বলেছেন: "ইয়া আইয়্যুহাল ইনসানু মা গার্রাকা বিরাব্বিকাল কারিম" অর্থাৎ, হে মানুষ কিসে তোমাকে তোমার মহিমান্বিত রব সম্পর্কে উদাসীন করল? (৮২:৬ )
সত্যিকার অর্থেই বেশীর ভাগ মানুষ বাস্তবে স্রষ্টাকে ভুলে গিয়েছে৷ ইউরোপ-আমেরিকায় নাস্তিকের সংখ্যা অনেক৷ রাশিয়া পূর্বে অফিসিয়ালি নাস্তিক ছিল৷ এখনও সেখানে নাস্তিকতার হার কম নয়, বরং অনেক হবে৷ অন্যদিকে যারা বিশ্বাসী বলে দাবী করে তাদের মধ্যেও অনেকে সন্দেহবাদী (skeptic)৷ অর্থাৎ বলবে না যে স্রষ্টা নেই, কিন্তু বাস্তবে স্রষ্টাকে স্মরণ করবে না বা তার আদেশ মেনে চলবে না৷ স্রষ্টাকে মেনে চলবে এরকম লোকের সংখ্যা খুব কম৷
খ্রিষ্টানদের মধ্যে যারা স্রষ্টাকে বিশ্বাস করে , তাদের মধ্যে স্রষ্টার কার্যকর আনুগত্য কম৷ সে তুলনায় মুসলমানদের অবস্থা ভালো৷ এখানে নাস্তিক নেই বললেই চলে এবং যারা বিশ্বাসী তারা কোন না কোন পর্যায়ে আমল করে৷ যারা নিজেদেরকে সেক্যুলার বলে দাবী করে , তাদেরও বেশীরভাগ একটা নির্দিষ্ট পর্যায় পর্যন্ত আমল করে৷ তারাও নামাজ পড়ে, ইফতার করে, সাহরী খায়, হালাল-হারাম দেখে চলে৷ তারাও কুরবানী, হজ্জ, ওমরা ও ঈদ পালন করে৷ সুতরাং মুসলমানদের মধ্যে ইসলামের অনুশীলন তুলনামূলকভাবে ভাল৷
স্রষ্টাকে ভুলে যাওয়ার ফলে দু'টি সমস্যা সৃষ্টি হয়েছেএকটি হলো বস্তুবাদ ও নাস্তিকতাআরেকটি হলো গোড়া সেক্যুলারিজম - সেটিও স্রষ্টাকে প্রায় অস্বীকার করার কাছাকাছি একটি অবস্থাবিশ্ব সংকটের মূলে কাজ করছে এ দু'টি - একদিকে বস্তুবাদ ও নাস্তিকতা এবং অন্যদিকে সেক্যুলারিজম
স্রষ্টাকে ভুলে যাওয়ার প্রভাব শিক্ষা ব্যবস্থার উপরও পড়েছেশিক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে সেক্যুলারিজমের উপর দাড়িয়ে আছেবর্তমান বিজ্ঞান শিক্ষাতে রয়েছে সেক্যুলারিজমের গভীর ছাপইউরোপের পন্ডিতরা এমনকি বর্তমানে মুসলমান বিজ্ঞানীরাও তাদের বইগুলো 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম' দিয়ে শুরু করেন নাকিন্তু মুসলমানরা যখন বিজ্ঞানে উন্নতি করল (চীন ও ভারত থেকে গ্রহন করে), তখন তারা অনেক দিকে বিজ্ঞানের বিস্তার ঘটালসেসময় ঐসব মুসলমানরা তাদের বিজ্ঞানের প্রত্যেক বইগুলো 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম' দিয়ে শুরু করতেনতারা স্রষ্টায় বিশ্বাসী ছিলেন গভীরভাবেকিন্তু ইউরোপীয় বিজ্ঞানিরা বিশ্বাসী না হওয়ায় (অথবা সেক্যুলার হওয়ায় কিংবা স্রষ্টায় বিশ্বাস করা তাদের কাছে একটি লজ্জার বিষয় হওয়ায়), তারা স্রষ্টার কথা উল্লেখ করেননাআমাদের মুসলিম বিজ্ঞানীরা এটি এখন লিখতে পারেনকিন্তু তারাও লিখছেননাএখন না লেখা রেওয়াজ হয়ে গেছেঅথচ আগে লেখাটাই রীতি ছিলএখন বিজ্ঞানের বইগুলোতে আল্লাহ বা গড শব্দের উল্লেখ নেইস্রষ্টা (creator) শব্দটি লেখা হয় না এটি একটি অদ্ভুত ব্যাপারকোথাও কোথাও প্রকৃতি (Nature) শব্দের উল্লেখ আছেকিন্তু এই প্রকৃতি কি সেটি একেবারেই স্পষ্ট নয়তারা একবারও ভাবেনা যে, এসব প্রাকৃতিক আইন আছে কিভাবে, আইন প্রণেতা ছাড়া কি কোন আইন হয়? তারা নাকি খুব যুক্তিবাদী, কিন্তু আমি তো কোন যুক্তি দেখছি না
আধুনিক বিজ্ঞানের অনেক ভালো দিক আছে, অনেক অবদান আছে আমরা মানিকিন্তু এর পেছনে কাজ করছে এমন একটি মন যেটি স্রষ্টার প্রশ্নে, আল্লাহ তায়ালার ব্যাপারে সন্দেহ-সংশয়বাদীতায় ভুগছেস্রষ্টাকে স্পষ্ট স্বীকৃতি দিচ্ছে নাআল্লাহর নাম উল্লেখ করছে নাএটি উল্লেখ করা সভ্যতা বিরোধী মনে করছেএটি একটি পশ্চাৎপদ ব্যাপার মনে করছেএই যে ধারণা এটা আমাদের কালচারকে খারাপ করে ফেলছেআমাদের কালচারে সংশয়বাদ ও নাস্তিকতার প্রভাব পড়ছে
সমাজবিজ্ঞানেরও একই রকম অবস্থাসমাজতত্ত্ব ধরেই নেবে যে ধর্ম একটি মানব সৃষ্ট বিষয়অথচ তারা এভাবে দেখাতে পারত যে, স্রষ্টাই আমাদের সৃষ্টি করেছেনআমাদের একটি সামাজিক প্রবণতা বা সামাজিক মন দিয়েছেনস্রষ্টার সার্বিক পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই আমাদের মধ্যে সমাজবদ্ধ হবার মানসিকতা রয়েছেএজন্য আমরা একতাবদ্ধ হই এবং সমাজ গঠন করিশিক্ষা ব্যবস্থার অন্যান্য সেক্টরেরও একই অবস্থাযেমন নৃবিজ্ঞানও স্বীকার করছেনা যে , মানুষকে আল্লাহর সৃষ্টি করেছেনএটিকে তারা একেবারেই বাদ দিয়ে দিচ্ছে নৃবিজ্ঞান মানব সৃষ্টির ইতিহাস বের করার চেষ্টা করছে মাটি খুড়ে বের করা হাড় এবং অন্যান্য নৃতাত্ত্বিক চিহ্ন থেকেএসব থেকে তারা যে ইতিহাস লিখছে তাতে তারা বলছে, মানুষ এমনি এমনিই হয়েছে; কোন স্রষ্টা নেইএখানে উল্লেখ করতে চাই যে, দারিদ্র বিশ্বের একটি বড় সংকট, দারিদ্রের জন্য মানুষের একটি বিরাট অংশ ভাল হতে পারেনা সংকটের মূলেও রয়েছে ঐ আল্লাহকে না মানা, বস্তুবাদ এবং সেক্যুলারিজম
মানুষ বস্তুবাদী হয়ে গেছেগরীবের জন্য, দারিদ্র দূর করার জন্য কাজ করার প্রয়োজনীয়তা সে উপলব্ধি করছেনাঅনেকেই দারিদ্র দূর করার জন্য ওয়াদা করে থাকেআসলে তারা ওয়াদা করার জন্য ওয়াদা করে, কথা বলার জন্য বলেসত্যিই কি কার্যকরভাবে তারা এগুলো চায়? বিশেষ করে দেশের পুঁজিবাদীরা এগুলো চায়না বলেই মনে হয়কারণ পুঁজিবাদের তত্ত্বে গরীবের কথা নেইপ্রফিটের কথা আছে, মুক্ত বাজারের কথা আছেসেখানে সরকারী হস্তক্ষেপ না করার কথা বলা হয়েছেবিভিন্ন ব্যবস্থা নেয়ার মাধ্যমে বাজারের বিকৃতি (Market distortion) দূর করার কথা পুঁজিবাদী তত্ত্বের কোথাও নেইগরীবের ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে হবে এটা পুঁজিবাদের কোথাও বলা নেইযদিও এটা এখন পুঁজিবাদী দেশে করা হচ্ছেকিন্তু এ ব্যবস্থা তারা পুঁজিবাদের কাঠামো থেকে বের হয়ে এসেই নিচ্ছে
কলোনিয়ালিজম এবং ইম্পেরিয়ালিজমও এসেছে বস্তুবাদ থেকেইনিজের ভোগ ও জাতির ভোগের প্রেরণা থেকেই এসবের উৎপত্তিএসবকিছুর মূল উদ্দেশ্য মানুষকে শোষণ (exploit) করা এই যে বস্তুবাদী স্বার্থপরতা এবং পুঁজিবাদ - এসব পরস্পর বিচ্ছিন্ন নয়এসবকিছু মিলে মানুষকে দায়িত্বহীন বানিয়েছে , তাকে ভোগবাদী করে তুলেছেদায়িত্বশীল কাদের বলা যেতে পারে? যারা আল্লাহকে ভয় করে এবং দুনিয়াকে এক্সপ্লয়েট করেনাসুতরাং সকল সমস্যার মূল কারণ যদি বলতে হয়, আমি বলব স্রষ্টাকে ভুলে যাওয়াএজন্য যুগে যুগে নবী-রাসূলরা আহবান করেছেন আল্লাহকে মানো এবং বল, 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' - আল্লাহ ছাড়া কোন মাবুদ নেইএ সমস্যার সমাধান হচ্ছে মানুষের মধ্যে স্রষ্টার প্রতি বিশ্বাস ফিরিয়ে আনা মুসলিমদের এমনকি অমুসলিমদের জন্যও বলবো, যে কোন ধর্মের প্রতি বিশ্বাস নাস্তিকতা থেকে ভালকারণ প্রত্যেক ধর্মের একটা এথিক্স বা নীতিবোধ আছেনাস্তিকতার কোন নীতিবোধ নেইসে তো নিজেকে সম্পূর্ণ স্বাধীন মনে করেসে বিশ্বাস করে তার কোন বিচার হবে না, তার কোন জবাবদিহিতা নেই; সুতরাং দুনিয়ায় যা ইচ্ছা সে করতে পারেএ ধরণের লোক সমাজের জন্য ভয়ংকরএজন্য সবার মধ্যে স্রষ্টার প্রতি বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে হবে আল্লাহকে চেনাতে হবে যতদূব সম্ভবসঠিক শিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবেএভাবেই সমাজ তথা বিশ্ব থেকে স্বার্থপরতা দূর হতে পারে, মূল রোগ তথা মূল সমস্যা দূর হতে পারে


বিস্তারিত পড়ুনঃ

ক্রম
বই
লেখক
পাতা
ডাউনলোড
প্রিন্ট
মাওলানা সাইয়্যেদ আবুল আ'লা মওদুদী
৩৬২
শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব নাজদী
১৪৬
শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব নাজদী
২৩
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ
৩৬
হাফেজ মুহাম্মদ আইয়ুব
২১
আখতারুজ্জামান মুহাম্মদ সুলায়মান
মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী
আব্দুল্লাহ শহীদ আব্দুর রহমান
২০
মুহাম্মদ হারুন হুসাইন
১১১
১০
ডাঃ জাকির নায়েক
১৯
১১
মাওলানা আব্দুস শহীদ নাসিম
৩০
১২
ড. আবু আমীনাহ বিলাল ফিলিপ্‌স
২৭৯
১৩
মাওলানা সাইয়্যেদ আবুল আ'লা মওদুদী
৩৮
১৪
কাউসার বিন খালিদ
১৫
ইসলামী দাওয়াহ ও নির্দেশনা অফিস, শাফা
১১৩
১৬
শায়েখ আবুল কালাম আযাদ
১২৬
১৭
দাওয়াহ সেন্টার রিয়াদ
৩৬
১৮
সংকলন মুহাম্মদ নাসীল শাহরুখ
২৭২
১৯
ড. ইব্রাহীম বিন মুহাম্মদ আল-বুরাইকান
৬৮


be Organized by Holy Islam 
O.H.I 

For More Visit: