Friday, August 12, 2011

রামাদান ম্যানুয়েল-১১: রোজার মাধ্যমে যৌনাবেগ হ্রাস


السلام عليكم
দৈনন্দিন পথনির্দেশিকা


রামাদান ম্যানুয়েল-১১: রোজার মাধ্যমে যৌনাবেগ হ্রাস

ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সঙ্গে ছিলাম, তিনি ইরশাদ করলেন,

مَنْ اسْتَطَاعَ مِنْكُمْ البَاءَةَ فَلْيَتَزَوَّجْ فَإِنَّهُ أَغَضُّ لِلْبَصَرِ وَأَحْصَنُ لِلْفَرْج، ومَنْ لم يَسْتَطِعْ فَعَلَيهِ بالصَّومِ فَإِنَّهُ له وِجَاء
 متفق عليه. رواه البخاري (১৮০৬) ومسلم (১৪০০).

তোমাদের মধ্যে যে বিবাহের সামর্থ রাখে সে যেন বিবাহ করে। কারণ তা দৃষ্টিকে অবনত রাখা এবং লজ্জাস্থানের হেফাজতের ক্ষেত্রে অধিক সহায়ক। আর যার বিবাহ করার সাধ্য নেই সে যেন রোজা রাখে কারণ তা যৌনাবেগ হ্রাস করে।

জাবের বিন আব্দুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত যে, এক যুবক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর দরবারে এসে নপুংসক হওয়ার অনুমতি চাইলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উত্তর করলেন,
صُمْ وسَلِ الله عَزَّ وجَلَّ مِنْ فَضْلِه رواه أحمد. رواه أحمد (৩/৩৮২) وابن المبارك في الزهد (১১০৭) ورجاله ثقات إلا أن
 راويه عن جابر مجهول، لكن يشهد له الحديثان الآخران.

রোজা রাখ আর আল্লাহ তা‘আলার কাছে রিজিক প্রার্থনা কর।

আব্দুল্লাহ বিন উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে এক লোক এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল, আমাকে নপুংসক হওয়ার অনুমতি দিন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করলেন,

خِصَاءُ أُمَّتِي الصِّيامُ والقِيامগ্ধ رواه أحمد. رواه أحمد (২/১৭৩) والبغوي في شرح السنة (২২৩৮) وعزاه الهيثمي للطبراني وقال: ورجاله ثقات وفي بعضهم كلام (৪/২৫৩) وصححه الشيخ أحمد شاكر (৬৬১২) والألباني بطرقه في السلسلة الصحيحة (১৮৩০) دون اللفظه الأخيرة ্ والقيام فإنها زيادة ضعيفة كما نبه على ذلك الألباني رحمه الله تعالى.

আমার উম্মতের খাসী করা বা নপুংসক হওয়া হলো, রোজা এবং সালাত।

হাদিস থেকে যা শিখলাম

এক. আল্লাহর আনুগত্যের ব্যাপারে সাহাবাদের কেমন আগ্রহ ছিল! তাঁর অবাধ্য হওয়ার প্রতি কেমন ছিল তাদের ভয়! কীভাবে তাঁরা দীনের যাবতীয় বিষয় অকপটে জিজ্ঞেস করতেন এবং কেমন ছিল আখিরাতের প্রতি তাঁদের সজাগ দৃষ্টি!

দুই. জানা গেল, যৌনাবেগ দমন করার জন্য খাসী করা বা নপুংসক হওয়া নিষিদ্ধ। এ নিষেদ্ধাজ্ঞা দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, নপুংসক হওয়া বৈধ নয়।

তিন. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক রোজা দ্বারা যৌনাবেগ শীতল করার চিকিৎসার মাধ্যমে প্রমাণ হয় যৌনাবেগ হ্রাস করার জন্য অষুধ গ্রহণ বৈধ।

চার. সামর্থবান ব্যক্তির পক্ষে বিবাহের ফজিলত জানা গেল। বুঝা গেল বিবাহ একটি ইবাদত এবং রিজিক প্রাপ্তির কারণ।

পাঁচ. যে ব্যক্তি বিবাহের সামর্থ রাখে না তার কর্তব্য, দুআ করা এবং রোজা পালনের সাথে সাথে আল্লাহ যেন তা যুগিয়ে দেন সে প্রার্থনা অব্যাহত রাখা।

ছয়. নবীর আদর্শ হলো খাদ্য, পানীয় এবং স্ত্রী-সঙ্গ থেকে তৃপ্তি লাভ করা। ইবাদত এবং বুযুর্গি মনে করে এসব থেকে বিরত থাকা সুন্নতের স্পষ্ট লঙ্ঘন।

তথ্যসুত্রঃ
  . বুখারি : ১৮০৬, মুসলিম : ১৪০০।
  . যুহদ : ১১০৭।
  . আহমাদ : ৩/১৭৩
Collected from Islamhouse.com

O.H.I 
For More Visit:
      http://www.youtube.com/trueohi
      


বই পড়ুনঃ http://ohilibrary.blogspot.com/

Thursday, August 11, 2011

রামাদান ম্যানুয়েল-১০: রোজাদারকে ইফতার করানোর ফজিলত


السلام عليكم
দৈনন্দিন পথনির্দেশিকা

রামাদান ম্যানুয়েল-১০: রোজাদারকে ইফতার করানোর ফজিলত

জায়েদ বিন খালেদ জুহানি রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-

‘যে ব্যক্তি কাউকে ইফতার করাবে সে ওই ব্যক্তির সমান ছওয়াব পাবে। অথচ রোজাদার ব্যক্তির নেকি থেকে বিন্দুমাত্র কমানো হবে না।’

অন্য রেওয়ায়েতে আছে, যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবে- তাকে খাওয়াবে এবং পান করাবে সে তার সমান নেকি লাভ করবে অথচ তার নেকি থেকে বিন্দুমাত্র কমানো হবে না।

আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত যে, তাঁকে এক মহিলা ইফতার করানোর জন্য ডাকলে তিনি সে ডাকে সাড়া দিলেন এবং বললেন, তোমাকে আমি জানাচ্ছি যে, যে ব্যক্তি কোনো গৃহবাসীর কাছে ইফতার করবে, গৃহবাসী সে ব্যক্তির অনুরূপ নেকি পাবে। মহিলা বললেন, আমি চাই আপনি আমার কাছে ইফতার করার জন্য কিছুক্ষণ এখানে অবস্থান করবেন বা এ জাতীয় কিছু বলেছেন। আবু হুরায়রা রা. উত্তর দিলেন, আমি চাই এ নেকি আমার পরিবারই হাসিল করুক। 

হাদিস থেকে যা শিখলাম :
১. আল্লাহ তা’আলার অসীম অনুগ্রহ যে, তিনি দান-খয়রাতের নানা ক্ষেত্র উম্মুক্ত করেছেন। নেকি অর্জনের বিবিধ দ্বার খুলে দিয়েছেন। এরই অন্যতম হল, মানুষের প্রতি অনুগ্রহ করতে উদ্বুদ্ধ করা এবং এর জন্য প্রতিদানের ঘোষণা দেয়া। 

২. রোজাদারকে ইফতার করানো একটি ফজিলতপূর্ণ আমল। যেমনটি জানা গেল- যে ব্যক্তি রোজাদারকে ইফতার করাবে সে তার অনুরূপ নেকি লাভে ধন্য হবে।

৩. রোজাদারকে ইফতার করালে তার বদলা মহান আল্লাহ রোজাদারের আমলনামা থেকে নয়; নিজের পক্ষ থেকে দিবেন। অতএব রোজাদারের নেকি সামান্য পরিমাণও কমানো হবে না। আর এভাবে নেকি নির্ধারণ করাও রোজার ফজিলতের প্রমাণ বহন করে।

৪. এ থেকে এও প্রতীয়মান যে, ইফতারের দাওয়াত দিলে তা গ্রহণ করা অসমীচীন নয়। বরং বুযুর্গি দেখিয়ে বা নেকি কমে যাওয়ার আশংকায় ইফতারের দাওয়াত প্রত্যাখ্যান করা এক ধরনের বাড়াবাড়ি। কারণ অন্যের কাছে ইফতার করলে নিজের পুণ্য হ্রাস পায় না। তবে ইফতারের দাওয়াত যদি শুধু মিসকিনদের জন্য হয় আর সেখানে গিয়ে উপস্থিত হয় কোনো ধনী লোক তাহলে ভিন্ন কথা। (এ ক্ষেত্রে তার নেকি হ্রাসের সম্ভাবনা রয়েছে।)

৫. আত্মীয়-পরিজনদের সঙ্গে সদাচারের অংশ হিসেবে এবং তাদের মনোতুষ্টির খাতিরে দাওয়াতে সাড়া দেয়া, তাদের কাছে গিয়ে ইফতার করা যাতে তারা পুণ্য হাসিল করতে পারে উচিৎ কাজ। আবু হুরায়রা রা. এর উক্তি থেকে তাই বুঝা যায়।

৬. রোজাদারকে আপ্যায়নের উদ্দেশ্য হওয়া চাই- ইফতার করানোর নেকি কামাইয়ের মাধ্যমে নিজে উপকৃত হওয়া। খাদ্য-পানীয় সরবরাহের মাধ্যমে আপন ভাইকে সম্মানিত করা। গরিবদের ইফতার করানোর সময় এ চেতনা জাগ্রত রাখা সবিশেষ কর্তব্য।

৭. রোজাদারকে বাসায় নিয়ে আপ্যায়ন করা, তার জন্য খাবার প্রস্তুত করা বা কিনে দেয়া কিংবা প্রস্তুত করে তার উদ্দেশে পাঠিয়ে দেয়া বা ইফতার কিনে দেয়া- এসবই দাওয়াতের অন্তর্ভুক্ত। তবে এ ক্ষেত্রে বর্তমান যুগে যে অপচয়ের প্রবণতা দেখা দিয়েছে তা থেকে সচেতনভাবে বিরত থাকা উচিৎ।

৮. গরিবকে যদি ইফতার কিনে খাওয়ার জন্য টাকা দেয়া হয় আর সে এর কিছু দিয়ে ইফতার কিনে বাকিটা রেখে দেয় তার অন্য কোনো প্রয়োজন মেটাবার জন্য তবুও এর দ্বারা হাদিসে বর্ণিত ইফতার করানোর সওয়াবের অধিকারী হবে। অথচ বেচারার প্রয়োজনও পূর্ণ হলো।

তথ্যসুত্রঃ

·         তিরমিযি : ৮০৭, ইবনে মাজাহ : ১৭৪৬, নাসাযি : ৩৩৩০-৩৩৩১, ইবনে কুযাইমা : ২০৬৪, ইবনে হিব্বান : ৩৪২৯
·         মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক : ৯৭০৫ তাবরানি ৫/২৫৬
·         মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক : ৭৯০৮
·         আরেজাতুল আহওয়াজি : ৪/২১    
·         ফয়জুল কাদির : ৬/১৮৭

O.H.I 
For More Visit:
      http://www.youtube.com/trueohi
      


Wednesday, August 10, 2011

Identify last time of Sahri and Fajr


Identify last time of Sahri and Fajr

Fajr prayer begins when the second dawn starts, which is the white line that spreads horizontally along the horizon right and left. The time lasts until the sun rises.

The first dawn is the false dawn, which is whiteness that appears vertically in the sky like pillars. This happens approximately twenty minutes before the true dawn, and it increases and decreases according to the season.

False dawn is a temporary light on the eastern horizon that precedes the rising sun by about an hour; also called zodiacal light.Light that appears in the east just before dawn.

Some claims Persian Muslim astronomer Omar Khayyam (born 18 May 1048 AD,Neyshapur, Iran—1131 AD, Neyshapur, Iran) first discover it (http://www.youtube.com/wat​ch?v=O8m_pmPTvgk) and some claims it was first investigated by astronomer Giovanni Domenico Cassini in 1683 and first explained by Nicolas Fatio de Duillier in 1684 (http://en.wikipedia.org/wi​ki/Zodiacal_light).

But long before Omar Khayyam/ Giovanni Domenico
Cassini/Nicolas Fatio de Duillier last prophet Muhammad (pbuh) (570 Mecca– June 8, 633 Medina),clearly stated about this matter al-fajr al-kaadhib (الفجر الكاذب) or false dawn.There are many ahaadeeth(sayings of Muhammad) which
speak about the two dawns, such as the following:

The Prophet SAWS (peace and blessings of Allaah be upon
him) said: “There are two dawns, the dawn when food becomes haraam and prayer becomes permissible, and the dawn when prayer (i.e., Fajr prayer) is haraam and
food is permitted.”

(Narrated by al-Haakim and al-Bayhaqi from the hadeeth of Ibn
‘Abbaas; classed as saheeh by al-Albaani in Saheeh al-Jaami’, 4279).

And the Prophet (peace and blessings of Allaah be upon him)
said: “There are two dawns. With regard to the dawn which is like the tail of a wolf, this does not make it permissible to pray and haraam to eat. With regard to the dawn which appears horizontally in the sky, this makes it permissible to
pray and forbidden to eat.”

(Narrated by al-Haakim and al-Bayhaqi from the hadeeth of
Jaabir; classed as saheeh by al-Albaani in Saheeh al-Jaami’, 4278)

According to another report, “There are two dawns. One is called the tail of the wolf, which is the false dawn that appears vertically, not horizontally. The other appears horizontally and not vertically.” (Classed as saheeh by al-Albaani in al-Silsilah al-Saheehah, no. 2202).

Read more about fajr: http://www.al-islam.org/be​liefs/practices/fajr.html
http://islamqa.com/en/ref/​26763


রামাদান ম্যানুয়েল-৯: সেহরীর শেষ/ফজর নির্ণয়


السلام عليكم
দৈনন্দিন পথনির্দেশিকা


রামাদান ম্যানুয়েল-৯: সেহরীর শেষ/ফজর নির্ণয়


রাসুলুল্লাহ(সা) বলেছেন,

দুটি ফজর র‌য়েছে, একটিতে খাদ্যগ্রহণ হারাম এবং সালাত (ফজরের) জায়েজ আরেকটিতে সালাত (ফজরের) হারাম এবং খাদ্যগ্রহণ জায়েজ। 

(Narrated by al-Haakim and al-Bayhaqi from the hadeeth of Ibn ‘Abbaas; classed as saheeh by al-Albaani in Saheeh al-Jaami’, 4279). 

দুটি ফজর র‌য়েছে, একটিতে ফজর হল শিয়ালের লেজের ন্যায়, যা সালাত (ফজরের) আদায়কে না জায়েজ ও খাদ্যগ্রহণকে হালাল করে। আরেকটিতে ফজর দিগন্তে অনুভূমিক ভাবে প্রসারিত হয় যা সালাতকে (ফজরের) জায়েজ এবং খাদ্যগ্রহণকে হারাম করে ।

(Narrated by al-Haakim and al-Bayhaqi from the hadeeth of Jaabir; classed as saheeh by al-Albaani in Saheeh al-Jaami’, 4278) 

দুটি ফজর র‌য়েছে, একটিকে বলা হয় শিয়ালের লেজের ন্যায়, যা মিথ্যা ফজর যে খাড়াভাবে আগমন করে,অনুভূমিকভাবে নয়। আরেকটিতে অনুভূমিকভাবে আগমন করে, খাড়াভাবে নয়।

(Classed as saheeh by al-Albaani in al-Silsilah al-Saheehah, no. 2202). 



     এ বিষয়ে বিস্তারিত পড়ুনঃ http://ohioftruth.blogspot.com/2011/08/identify-last-time-of-sahri-and-fajr.html



O.H.I 
For More Visit:
      http://www.youtube.com/trueohi
      


বই পড়ুনঃ http://ohilibrary.blogspot.com/

Tuesday, August 9, 2011

রামাদান ম্যানুয়েল-৮: কতক্ষণ পর্যন্ত সাহরি গ্রহণ করা যায়?


السلام عليكم
দৈনন্দিন পথনির্দেশিকা

রামাদান ম্যানুয়েল-৮: কতক্ষণ পর্যন্ত সাহরি গ্রহণ করা যায়?

আব্দুল্লাহ বিন উমর রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল স. ইরশাদ করেন-
রাত্রিকালে বেলাল আজান দেয়, তোমরা (তার আজান শুনে) পানাহার জারি রাখতে পার যাবৎ না আব্দুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুম আজান দেয়।

অতপর আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা. বলেন,
তিনি ছিলেন একজন অন্ধ মানুষ। যতক্ষণ কেউ তাকে ‘সকাল হয়েছে, সকাল হয়েছে’ না বলে তিনি আজান দেন না।

মুসলিমের অপর এক বর্ণনায় রয়েছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর দু’জন মুয়াজ্জিন ছিল বেলাল এবং অন্ধ আব্দুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুম। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

বেলাল রাত্র বাকি থাকতেই আজান দেয় সুতরাং তার আজানের পরও তোমরা পানাহার অব্যাহত রাখতে পার যতক্ষণ না ইবনে উম্মে মাকতুম আজান দেয়। রাবি বলেন, এ দু’জনের আজানের মধ্যে এতটুকু ব্যবধান হতো যে একজন (মিনার থেকে) নামতেন তো অপরজন মিনারে উঠতেন।

সামুরা বিন জুনদুব রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন,

তোমাদেরকে যেন বেলালের আজান বা আকাশ দিগন্তের এমন লম্বা রেখা সাহরি গ্রহণ থেকে বিরত না রাখে যতক্ষণ না তা এভাবে ছড়িয়ে যায়। রাবি বলেন, অর্থাৎ আড়াআড়িভাবে (সে রেখা ছড়িয়ে না যায়।)

নাসায়ীর এক রেওয়ায়েতে আছে,‘তোমাদের যেন বেলালের আজান বা (দিগন্তের) এই শুভ্রতা যেন ধোকায় পতিত না করে যাবৎ না রেখা এভাবে এভাবে বিক্ষিপ্ত না হয়ে পড়ে অর্থাৎ আড়াআড়িভাবে।
আবু দাউদ তয়ালিসি বলেন, একথা বলে তিনি হাত প্রসারিত করে ডানে বামে দেখালেন।

আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন

তোমাদের কেউ যদি হাতে আহার-পাত্র হাতে নেয়া মাত্র আজান শুনতে পায় সে যেন প্রয়োজন সেরে তবেই সে পাত্র হাত থেকে রাখে।  

আহমদের বর্ণনায় অতিরিক্ত আরো বলা হয়েছে, ‘এবং মুয়াজ্জিন আজান দিচ্ছিল যখন সুবহে সাদিকের আলো বিচ্ছুরিত হচ্ছিল।’ 

হাদিস থেকে যা শিখলাম  :
১. সুবহে সাদিক পর্যন্ত পানাহার, স্ত্রী সহবাসসহ সব ধরনের রোজা পরিপন্থি  কাজ বৈধ।

২. অন্ধ লোক যদি সালাতের ওয়াক্ত জানতে পারে অথবা কেউ তাকে জানিয়ে দেয় তাহলে তার জন্য আজান দেয়া জায়িজ আছে।

৩. ফজরের আজান দু’বার দেয়া বৈধ। একবার ফজরের পূর্বলগ্নে দ্বিতীয়বার ফজর উদয় হওয়া মাত্র।

৪. সাহরি গ্রহণের আগেই রোজার নিয়ত করা জায়িজ এবং নিয়ত করার পর খেলে রোজার নিয়ত ভঙ্গ হয় না। কারণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফজর পর্যন্ত পানাহারের অনুমতি দিয়েছেন সুতরাং বুঝা গেল, নিয়ত আগেই করা হয়েছে এবং এর পর খাওয়া-দাওয়ায় কোনো সমস্যা নেই। সুতরাং রোজা পালনেচ্ছু যদি দুপুর রাতে রোজার নিয়ত করে আর সাহরি খায় একদম শেষ মুহূর্তে তাহলে তার নিয়ত ভঙ্গ হবে না। 

৫. ফজর উদয়ে সংশয় বোধ করলে সাহরি খাওয়া জায়িজ আছে। কারণ নিচের আয়াতের প্রতি লক্ষ্য করলে দেখা যাবে রাত অবশিষ্ট থাকাটাই স্বাভাবিক। “তোমরা পানাহার করতে থাক যতক্ষণ না ফজরের সাদা রেখা থেকে কালো রেখা সুস্পষ্ট আলাদা না হয়ে যায়।” আর যে সন্দেহে দোদুল্যমান তার কাছে তো ব্যাপারটি অস্পষ্ট। আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রা. থেকে সহি সনদে বর্ণিত হয়েছে তুমি খেতে থাক যতক্ষণ সংশয়বোধ কর যাবৎ না তোমার কাছে বিষয়টি স্পষ্ট প্রতিভাত হয়।  এটি প্রযোজ্য কেবল সে ব্যক্তির ক্ষেত্রে যে ফজরের প্রতীয়ক্ষায় আছে এবং ফজর উদয়ের ব্যাপারে সংশয়ে ভুগছে। পক্ষান্তরে যদি সে ব্যক্তি আজান বা ঘড়ির ওপর নির্ভর করে তাহলে তার জন্য কোনো সন্দেহ ধর্তব্যের মধ্যে নয় কারণ সে অন্যকে জিজ্ঞেস করে বা ঘড়িতে সময়  দেখে নিশ্চিত হতে পারে।

৬. সাহরি করা মুস্তাহাব এবং বিলম্বে সাহরি গ্রহণ করাও মুস্তাহাব।

৭. উল্লেখিত বাক্যাংশ-‘দু’জনের আজানের মধ্যে এতটুকু ব্যবধান হতো যে একজন (মিনার থেকে) নামতেন তো অপরজন মিনারে উঠতেন।’ এর ব্যাখ্যায় ইমাম নববি র. বলেন, বেলাল রা. ফজরের আগেই আজান দিতেন তারপর মিনারায় বসে বসে দুআ-দরুদ পড়তে থাকতেন আর অপেক্ষা করতেন উদয়ের। অবশেষে যখন ফজর উদয়ের সময় ঘনিয়ে আসত সেখান থেকে নেমে আসতেন এবং ইবনে উম্মে মাকতুম রা.কে জাগাতেন। ইবনে উম্মে মাকতুম রা. অজু-ইস্তেঞ্জা সারতেন তারপর ফজরের ওয়াক্ত হওয়া মাত্র মিনারে উঠে আজান দিতেন। 

৮. বুঝা গেল, ফজরের পরের সময়কে সকাল বলা হবে রাত নয়।
৯. মানুষকে তার মায়ের দিকে সম্বন্ধ করে ডাকাও বৈধ যদি সে ওই নামে খ্যাত হয়ে যায়।

১০. ‘ফাজরে আউয়াল’ এবং ‘ফাজরে ছানি’-র মাঝে তিনটি পার্থক্য রয়েছে। যথা প্রথম পার্থক্য. ‘ফাজরে আউয়াল’ হলো, দিগন্তে আড়াআড়ি রেখা অর্থাৎ উত্তর থেকে দক্ষিণে প্রলম্বিত রেখা। আর ‘ফাজরে ছানি’ হলো, দিগন্তে লম্বালম্বিভাবে প্রসারিত অর্থাৎ পুর্ব থেকে পশ্চিমে প্রসারিত আলোকরেখা।

দ্বিতীয় পার্থক্য, ‘ফাজরে ছানি’ র পরে আর অন্ধকার থাকে না বরং সূর্যোদয় পর্যন্ত আলো ক্রমশ ফুটে উঠতে থাকে পক্ষান্তরে ‘ফাজরে আউয়াল’ তার ইষৎ আলো ছড়ানোর পর অন্ধকার হয়ে যায়।

তৃতীয় পার্থক্য. ‘ফাজরে ছানি’ র শুভ্রতা দিগন্তের সঙ্গে লাগোয়া দেখা যায় আর ‘ফাজরে আউয়াল’ এর শুভ্রতা  এবং দিগন্তের মাঝখানে হালকা অন্ধকার থাকে।

১১. মুয়াজ্জিন যদি এমন মুহূর্তে ফজরের আজান দেয় রাখতে ইচ্ছুক ব্যক্তি যখন সাহরি গ্রহণের জন্য পাত্র হাতে নিয়েছে তাহলে তার জন্য খাবার শেষ করার অনুমতি রয়েছে। এটা হলো শরিয়ত প্রবর্তকের পক্ষ থেকে বিশেষ ছাড়। সুতরাং শুকরিয়া দয়াময় সে রবের জন্য।

তথ্যসুত্রঃ
  . বুখারি : ৫৯২, মুসলিম : ১০৯২
  . মুসলিম : ১০৯৪, আবু দাউদ : ২৩৪৬, তিরমিযি : ৭০৬, নাসায়ী : ৪/১৪৮
  . আবু দাউদ : ২৩৫০, আহমদ : ২/৫১০, দারে কুতনি : ২/১৬৫,  বাইহাকি : ৪/২১৮
  . মুসনাদে আহমদ : ২/৫১০ তাবরানি : ২/১৭৫, বাইহাকি : ৪/২১৮
  . আল মুফহিম : ৩/১৫০, শরহে নাববি : ৭/২০৪, ফাতহুর বারি : ২১/৯৯-১০০, আদ দিবাজ : ৩/১৯৩
  . মজমু : ৬/৩১৩, যখিরাতুল আকবী : ২০/৩৫৫
  . আর মুফহিম : ৩/১৫১, শরহু  নাবাবি : ৭/২০৪ আদ দিবাজ : ৩/১৯৪
  . আল মুফহিম : ৩/১৫১, ফতহুল বারি : ২/১০১
  . ফতহুল বারি : ২/১০১
  . ফিকহুল ইবাদাত : ১৭২-১৭৩
  . আল মিন্নাহ লিল আলবানি : ৪১৭-৪১৮

Collected from Islamhouse.com

O.H.I 
For More Visit:
      http://www.youtube.com/trueohi
      


বই পড়ুনঃ http://ohilibrary.blogspot.com/

Monday, August 8, 2011

রামাদান ম্যানুয়েল-৭: সাহরির উত্তম সময় কোনটি


السلام عليكم

দৈনন্দিন পথনির্দেশিকা

রামাদান ম্যানুয়েল-৭: সাহরির উত্তম সময় কোনটি


ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন
‘বেলালের আজান যেন তোমাদের কাউকে সাহরি খাওয়া থেকে বাধা না দেয়। কারণ তিনি আজান দেন কিংবা (রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, ডাকেন এবং ঘুমন্তদের জাগাতে। ফজর এই নয় যে, ‘এমন বলল’ (ইয়াহয়া ইবনে সায়িদ আল কাত্তান এ কথা বলে নিজ হাতের তালুদ্বয় একত্রিত করলেন) ‘আর এমন বলল’ (ইয়াহয়া এ কথা বলে তর্জনীদ্বয় প্রসারিত করলেন।) 

সাহল বিন সা‘দ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আমি সস্ত্রীক সাহরি করতাম তারপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- এর পেছনে ফজরের সালাত আদায়ের জন্য তাড়াতাড়ি ছুটতাম।’ 

বুখারির রেওয়ায়েত মতে, ‘অতপর আমার তাড়াহুড়া হত যেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সঙ্গে সিজদা পাই।’

জর বিন হুবাইশ র. বলেন, আমি হুযায়ফার সঙ্গে সাহরি করলাম তারপর আমরা ছুটলাম মসজিদ অভিমুখে, মসজিদে পৌঁছে দু’রাকাত সালাত আদায় করলাম। আমরা পৌঁছার মুহূর্তকাল পরেই জামাত দাঁড়িয়ে যায়।’
 
উল্লেখ্য যে, হাদিসে বর্ণিত ‘সালাতরতদের ফেরাতে’ বাক্যাংশের অর্থ হল, বেলাল রা. এ আজানের মাধ্যমে তোমাদের জানান যে, ফজর আর বেশি দূরে নয় অতএব যেন তাহাজ্জুদরত ব্যক্তি হালকা বিশ্রামে যান যাতে সতেজ দেহে ফজরের সালাতে অংশ নিতে পারেন অথবা যিনি বিতর পড়েন নি বিতর পড়ে নিতে পারেন কিংবা ফজরের সালাতের জন্য ফজরের পূর্বক্ষণে পবিত্রতা হাসিল বা এধরনের কোনো প্রয়োজন থাকলে তা মিটিয়ে নিতে পারেন।

আর ‘ঘুমন্তদের জাগাতে’ বাক্যাংশ দ্বারা বুঝানো হয়েছে- ঘুমন্তরা যেন ঘুম থেকে জেগে ফজরের প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে পারে। যেমন- তাহাজ্জুদ পড়তে ইচ্ছুক সংক্ষিপ্ত তাহাজ্জুদ আদায় করতে পারে, যে বিতর পড়ে নি সে বিতর পড়ে নিতে পারে, যে রোজা রাখবে সে সাহরি খেয়ে নিতে পারে এবং যার অজু-গোসল বা ফজরের পূর্ব মুহূর্তে যেসব প্রয়োজন সারতে হয় তা সম্পন্ন করতে পারে।

হাদিস থেকে যা শিখলাম :
১. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং সাহাবায়ে কিরাম ফজরের একেবারে পূর্বলগ্নে সাহরি করতেন। এমনকি তাদের কেউ কেউ বলেছেন, যে তারা এতোটা বিলম্বে সাহরি খেতেন যে খাওয়া সংক্ষিপ্ত করে জামাত ধরার জন্য তাড়াতাড়ি ছুটতেন। সুতরাং জানা গেল ফজরের একেবারে পূর্বলগ্নে সাহরি খাওয়া সুন্নত।

২. প্রয়োজনকালে আহার গ্রহণের সময় তাড়াহুড়া করা জায়িজ। এ ব্যাপারে ইমাম বুখারি র. ‘সাহরি তাড়াতাড়ি করা তথা দ্রুত খাওয়া’ শিরোনামে একটি স্বতন্ত্র অধ্যায়ই কায়েম করেছেন। ইমাম মালেক র. আব্দুল্লাহ বিন আবি বকর রা. হতে তিনি তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আমরা রমজান মাসে রাতের সালাতে (ফজর) যেতাম আর আমাদের খাদেমদের ফজরের জামাত ছুটে যাওয়ার আশংকায় তাড়া দিতাম।

তথ্যসুত্রঃ

  . বুখারি : ৬৮২০, মুসলিম : ১০৯৩
  . বুখারি : ৫৫৪
  . বুখারি : ১৮২০, আবু ইয়া’লা : ৭৫৩৩ 
  . নাসায়ি : ৪/১২৪ 
  . প্রাগুক্ত : ৭/২০৪, আল মুফহিম : ৩/১৫৩ 
  . সহি বুখারি : ২/৬৭৮, ফাতহুল বারি : ৪/১৩৭ 
  . মুযাত্তা মালেক : ১/১১৬, বাইহাকি : ২/৪৯৭


Collected from islamhouse.com



O.H.I 
For More Visit:

বই পড়ুনঃ http://ohilibrary.blogspot.com/