তোমরাযদি কারও অধীন না হয়ে থাক এবং নিজদের এ ধারণার ব্যাপারে যদি সত্যবাদী হয়েথাক তাহলে মৃত্যূপথযাত্রীর প্রাণ যখন কন্ঠনালীতে উপনীত হয় এবং তোমরা নিজচোখে দেখতে পাও যে, সে মৃত্যূমুখে পতিত হচ্ছে সেসময় তোমরাবিদায়ী প্রাণবায়ুকে ফিরিয়ে আন না কেন ?
সে সময় তোমাদের চেয়ে আমিই অধিকতর নিকটে থাকি; কিন্তু তোমরা দেখতে পাও না; মৃত সেই ব্যক্তি যদি আল্লাহর নৈকট্য লাভকারি হয়ে থাকে তাহলে তার জন্যে রয়েছেআরাম- আয়েশ, উত্তম রিযিক এবং নিয়ামতে ভরা জান্নাত।
আর সে যদি ডান দিকের লোক হয়ে থাকে তাহলে তাকে সাদর অভিনন্দন জানানো হয় এভাবে যে তোমার প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক;
আর যে যদি অস্বীকারকারী পথভ্রষ্টদের কেউ হয়ে থাকে তাহলে তার সমাদরের জন্য রয়েছেফুটন্ত গরম পানি এবং জাহান্নামে ঠেলে দেয়ার ব্যবস্থা;
এ সব কিছুই অকাট্য সত্য; অতএব আপনার মহান রবের নামের তাসবীহ- তথা পবিত্রতা ঘোষণা করুন।
আমি তোমাদের সৃষ্টি করেছি। এরপরও কেন তোমরা মানছ না ?
তোমরা কি কখনো ভেবে দেখেছ, যে শুক্র তোমরা নিক্ষেপ কর তা দ্বারা সন্তান সৃষ্টি তোমরা কর, না তার স্রষ্টা আমি?
আমি তোমাদের মধ্যে মৃত্যূকে বন্টন করেছি।
তোমাদের আকার আকৃতি পাল্টে দিতে এবং তোমাদের অজানা কোনআকার আকৃতিতে সৃষ্টি করতে আমি অক্ষম নই।
নিজেদের প্রথমবার সৃষ্টি সম্পর্কে তোমরা জান। তবুও কেন শিক্ষা গ্রহণ কর না।
তোমরা কি কখনও ভেবে দেখেছ, যে বীজ তোমরা বপন করে থাক তা থেকে ফসল উৎপন্ন তোমরা কর, না আমি ? আমি চাইলে এসব ফসলকে দানাবিহীন ভূষি বানিয়ে দিতে পারি। তখন তোমরা নানা রকমের কথা বলতে থাকবে। বলবে"আমাদের উল্টো জরিমানা দিতে হল - আমাদের ভাগ্যটাই মন্দ"
তোমরা কি কখনও দেখেছ, যেপানি তোমরা পান কর, মেঘ থেকে তা তোমরা বর্ষণ কর, না তার বর্ষণকারী আমি? আমি চাইলে তা লবণাক্ত বানিয়ে দিতে পারি। তা সত্ত্বেও শোকরগোজর কর না কেন?
তোমরা কি কখনও লক্ষ করেছ - এই যে আগুন তোমরা জ্বালাও তার গাছ তোমরা সৃষ্টি কর, না তার সৃষ্টিকর্তাআমি ? আমি সেটিকে স্মরণ করিয়ে দেয়ার উপকরণ এবং মুখাপেক্ষীদের জন্যজীবনোপকরণ বানিয়েছি।
তিনি বলেন, মরভূমির মাঝে জনৈকা নারীকে একাকী দেখলাম; বললাম, ‘কে আপনি’? উত্তরে বললেন-“আর বলুন, সালাম, অতঃপর শীঘ্রই জানতেপারবেন” (যুখরুখ-৮৯)
এ আয়াত থেকে পাঠ থেকে বুঝতে পারলাম যে, তিনি বলছেন, প্রথমে সালাম দিন; অতঃপর প্রশ্ন করুন; কেননা সালাম হলো ভদ্রতা এবং আগন্তুকের পক্ষথেকে যার সান্নিধ্যে আসা হয় তার প্রতি কর্তব্যস্বরুপ; তখন আমি তাকে সালাম দিলামএবং জিজ্ঞাসা করলাম, এই মরু প্রান্তরে একাকী আপনি কি করছেন? উত্তরে তিনি বললেন-“আল্লাহ যাকে পথ দেখান তারকোন পথভ্রষ্টকারী নেই”(যুমার-৩৭)
এ আয়াত থেকে আমি বুঝতে পারলাম যে, তিনি পথ হারিয়েফেলেছেন। কিন্তু পথ খুজে পাওয়ার জন্য তিনি মহান রাব্বুল আলামীনের ওপর ভরসা করছেন।আমি তাকে প্রশ্ন করলাম আপনি জ্বিন নাকি মানুষ? তিনি বললেন, “হে আদম সন্তানেরা!প্রত্যেক নামাযের সময় তোমাদের উত্তম পোষাক পরিধান করো”(আরাফ-৩১)
এ আয়াত শুনে বুঝতে পারলাম যে, তিনি একজন মানুষ। তখন আমিতাকে আমি জিজ্ঞাসা করলাম ‘কোথা থেকে এসেছেন’উত্তরে তিনি বললেন, “তোমাদেরকে দুরবর্তী স্থানথেকে ডাক দেয়া হবে”(হামীম আস সাজদা-৪৪)
এ আয়াত শুনে বুঝতে পারলাম যে, তিনি বহুদুর থেকেএসেছেন। আবার তাকে জিজ্ঞাসা করলাম ‘কোথায় চলেছেন?’উত্তরে তিনি বললেন, “সামর্থ্যবান ব্যক্তির ওপর (কাবা)ঘরের হ্বজ্জ করা ফরজ ” (আলে ইমরান-৯৭)
বুঝতে পারলাম যে, তিনি হ্বজ্জের উদ্দেশে যাচ্ছেন।
আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, কয়দিন হলো রওয়ানা হয়েছেন। উত্তরেবললেন, “নিশ্চয়ই আমি আকাশসমুহ এবংপৃথিবীতে আর যা কিছু এতদুভয়ের মধ্যে বিদ্যমান সে সব কিছুকে ছয় দিনে সৃষ্টি করেছি ” (ক্বাফ-৩৮)
আমি বুঝতে পারলাম যে, ছয় দিন আগে তিনি হ্বজ্জের উদ্দেশে তারস্থান থেকে রওয়ানা হয়েছেন। বললাম কিছু খেয়েছেন? উত্তরে বললেন, “আল্লাহ কারও উপরে তারসাধ্যের বাইরে কিছু চাপান না”।(বাকারাহ-২৮৬) বুঝতে পারলাম যে, চলার ব্যাপারে এবং দ্রুতগমনের ক্ষেত্রে আমার মত তার সাধ্যে নেই। তখন আমি তাকে বললাম, ‘আমার বাহনে আরোহণ করেবসেন। আপনাকে গন্তব্যে পৌছে দিব।’উত্তরে বললেন, “যদি ঐ দুয়ের (আসমান ও জমিন) মধ্যেআল্লাহ ভিন্ন অন্য কোন উপাস্য থাকতো তাহলে উভয়ই ধ্বংস হয়ে যেত”(আম্বিয়া-২২)
আমি বুঝতে পারলাম যে, একটি বাহনে পুরুষ ও নারীর শরীরেরস্পর্শ ধ্বংসের কারণ হয়। কাজেই আমি বাহন থেকে নেমে পড়লাম এবং তাকে বললাম, ‘আপনিএকাকী বাহনে চড়ে বসেন’। যখন বাহনে আরোহন করলেন তখন বললেন-“পবিত্র মহান আল্লাহ যিনিএকে আমাদের জন্য বশীভূত করে দিয়েছেন, অন্যথায় একে বশীভূত করার ক্ষমতা কারও ছিলনা”(যুখরুখ-১৩)
যখন আমরা একটি কাফেলার সাথে একত্রিত হলাম তখন তাকেজিজ্ঞাসা করলাম ‘এই কাফেলায় কি কেউ আপনার পরিচিত রয়েছে?’উত্তর দিলেন“মুহাম্মাদ একজন প্রেরিতপুরুষবৈ অন্য কেউ নন”(আল-ইম রান- ১৪৪)
“হে ইয়াহিয়া! কিতাবকে শক্তভাবে ধারণ করো”(মারিয়াম-১২)
“হে মুসা! নিশ্চয়ই আমিই আল্লাহ”(কাসাস-৩০)
“হে দাঊদ! আমি তোমাকে পৃথিবীতে প্রতিনিধি নির্ধারণ করেছি”(সাদ-২৬)
এ আয়াত সমুহ থেকে বুঝতে পারলাম যে, মুহাম্মাদ, ইয়াহিয়া, মুসা ও দাঊদ নামে তার চারজন পরিচিত লোক কাফেলায় রয়েছে। যখন ঐ চারজন নিকটে এলেন তখনতিনি এ আয়াত পাঠ করলেন-“মাল- সম্পদ এবং সন্তান-সন্ততি হল পার্থিব জগতের সৌন্দর্য্য” (কাহফ-৪৬)
আমিবুঝতে পার লাম যে, এরা তারপুত্র। তিনি তাদেরকে বললেন“হে বাবা! তাকে মজদুর নিযুক্ত করো, কারণ তোমার মজদুর হিসেবে উত্তম হবে সেই ব্যক্তি যে শক্তিশালী এবং বিশ্বস্ত”(কাসাস-২৬)
এ আয়াত থেকে আমি বুঝতে পারলাম যে, তিনি তার পুত্রদেরকে বলছেনএই পরিশ্রমী ও বিশ্বস্ত লোককে পারিশ্রমিক প্রদান করো। যখন তার পুত্ররা আমাকে কিছুঅর্থ প্রদান করলো তখন তিনি অনুভব করলেন যে এগুলো কম হয়ে গেছে। একারনে তিনি বললেন“আল্লাহ যাকে চান তাকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেন” (বাকারাহ-২৬১) অর্থাৎ তার পারিশ্রমিক আরো বেশি দাও। এবার আমারকৌতুহলকে সন্তুষ্ট করার অভিপ্রায়ে তার পুত্রদেরকে জিজ্ঞেস ক রলাম“এ পূণ্যবতীনারী কে যিনি কুরআন ছাড়া কথা বলেন না”
তারা বললেন, এ নারীর নামহযরত ফিজ্জাহ। রাসুলেরকন্যা হযরত ফাতিমা(রা) –এর দাসী। বিশ বছর ধরে তিনি কুরআন ছাড়া কথা বলেন না ।
আল্লাহ তার সহায় হোন। আমীন
Reference
"Essence of The Holy Quran"
"The Eternal Light" by Ayatullah Agha Haji Mirza Mahdi Pooya
Edited by Syed Muhammad Murtaza & Husain P Taylor ISBN 0-944880-02-9 ( Hard Back ) 03-7 ( Paper Back )
وعن أَنس رضي اللَّه عنه عن النبي صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وسَلَّم قال : « مَنْ عَالَ جَارِيتَيْنِ حَتَّى تَبْلُغَا جَاءَ يَومَ القِيامَةِ أَنَا وَهُو كَهَاتَيْنِ » وَضَمَّ أَصَابِعَهُ . رواه مسلم .
« جَارِيَتَيْنِ » أَيْ : بِنْتَيْنِ .
Anas (May Allah be pleased with him) reported:
The Prophet (PBUH) said,
"Whoever supports two girls till they attain maturity, he and I will come on the Day of Resurrection like this". Messenger of Allah (PBUH) joined his fingers illustrating this. [Muslim].
আনাস (রা) থেকে বর্ণিত;
তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা) বলেছেন,
কোনব্যক্তি দুটি মেয়েকে তাদের প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া পর্যন্ত সাহায্য করে, সে এবং আমি শেষ বিচারের দিন এভাবে হাজির হব বলে রাসুলুল্লাহ (সা) তার দু’আঙ্গুল একত্রিত করলেন.